ভালো ও মন্দ কাজের বিনিময় প্রদানে কুরআনের বর্ণনা

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ (কুরআন) অবতারণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক।’ (সুরা হিজর : আয়াত ৯) কুরআনুল কারিম বিশ্ব মানবতার কল্যাণের উত্তম ইতিহাস ও উপদেশ গ্রন্থ। যারা এ কিতাবের উপদেশ গ্রহণ করবে তারাই সফলকাম। আল্লাহ তাআলা কুরআনের বান্দার ভালো ও মন্দ কাজের বিনিময়ের বিবরণও সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা তাদেরকে ভালরূপে জেনেছ, যারা শনিবারের ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘণ করেছিল। আমি বলেছিলামঃ তোমরা লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও। অতঃপর আমি এ ঘটনাকে তাদের সমসাময়িক ও পরবর্তীদের জন্য দৃষ্টান্ত এবং আল্লাহভীরুদের জন্য উপদেশ গ্রহণের উপাদান করে দিয়েছি। (সুরা বাক্বারা : আয়াত ৬৫-৬৬)

উল্লেখিত আয়াতটি হজরত দাউদ আলাইহিস সালামের সময়ের ঘটনা। যা উম্মতে মুসলিমার জন্য উপদেশ গ্রহণের পাথেয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

হজরত দাউদ আলাইহিস সালামের সময়কালে ইয়াহুদিদের সাপ্তাহিক ইবাদতের জন্য শনিবারকে নির্ধারিত করা হয়। কিন্তু তারা কিছুদিন আল্লাহর এ হুকুম অনুযায়ী চলার পর তাদের মধ্যে কিছু লোক কিছু কৌশল অবলম্বন করে।

এ কৌশল অবলম্বনকারী তিন দলে বিভক্ত হয়ে যায়। একদল অবৈধ কৌশল গ্রহণ করে; কেউ অবৈধ কৌশল অবলম্বন করেনি কিন্তু অবৈধ কৌশল অবলম্বনকারীদের বাধাও দেয়নি। আর একদল যারা অবৈধ কৌশল পরিত্যাগ করে এবং কৌশল অবলম্বনকারীদেরকে তাদের অবৈধ কাজে বাধা দেয় এবং তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে।

আল্লাহর হুকুম পালনে ব্যাপারে তিন দলে বিভিক্ত হয়ে পড়া ইয়াহুদিদের বিনিময় প্রদানে আল্লাহ তাআলার হিকমত কুরআনে ওঠে এসেছে। যা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে উম্মতে মুহাম্মাদির দুনিয়ার কল্যাণ ও পরকালের নাজাতের জন্য সুমহান শিক্ষা। যা তুলে ধরা হলো-

প্রথম দল
যারা আল্লাহ হুকুম লঙ্ঘন করে শনিবারে মাছ শিকারের অপকৌশল গ্রহণ করায় তারা আল্লাহর শাস্তির সম্মুখীন হয়। তাদের সকলকে বানরে পরিণত করা হয়। তাদের পুরুষরা বড় বড় বানরে পরিণত হয়। স্ত্রীরা বানরীতে রূপান্তরিত হয় এবং শিশুরা ছোট বানরে পরিণত হয়।

দ্বিতীয় দল
যারা তাদের মধ্যকার অন্যায় কৌশল গ্রহণকারীদের আল্লাহর অবাধ্য হওয়া থেকে বিরত রাখতে চেষ্টা করেনি এবং তাদের সঙ্গে সম্পর্কও ছিন্ন করেনি। তারাও আল্লাহর গজবে নিপতিত হয় এবং বানরে পরিণত হয়। কারণ তারা তাদের সম্মুখে সংঘটিত অন্যায়ের প্রতিবাদ না করাই ছিল তাদের অপরাধ।

তৃতীয় দল
যারা তাদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করে এবং অন্যায়কারীরা তাদের প্রতিবাদের পরেও আল্লাহর অবাধ্য হওয়ার কারণে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং তাদের বাসস্থানের মধ্যে চলাচলের রাস্তা ছাড়া সীমানা তৈরি করে আলাদা হয়ে যায়। যার ফলশ্রুতিতে আল্লাহ তাআল তাদেরকে এ গজব থেকে হিফাজত করেন।

এ প্রসঙ্গে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি হাদিস সুপ্রসিদ্ধ। তিনি বলেছেন, তোমাদের সামনে যদি কোনো অন্যায় কাজ সংঘটিত হতে দেখ, তবে হাত দ্বারা বাধা দাও, সামর্থ না থাকলে মুখ দ্বারা বাধা দাও, যদি তাও সামর্থ না থাকে তবে অন্তরে ঘৃনা করো। (অন্তরে ঘৃণার মানে হলো এ অন্যায় থেকে বিরত রাখতে নিরবে বা গোপনে অন্যায়ের প্রতিরোধমূলক কাজ চালিয়ে যাওয়া) আর এটা হচ্ছে দুর্বলতম ঈমানের পরিচয়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তাঁর অবাধ্য হওয়া থেকে হিফাজত করুন। অন্যায়ের প্রতিরোধ ও প্রতিবাদ করার তাওফিক দান করুন। ইসলামের বিধান যথাযথ পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।