গলে বড় স্কোর গড়ার পথে শ্রীলঙ্কা

ইতহাস বিস্মৃত হতে পারছেন না গল ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়াম। এমনিতেই এই মাঠের উইকেটকে বলা হয় রান প্রসবিনী। এর আগে বাংলাদেশ এই মাঠে গড়েছিল নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দলীয় স্কোরের রেকর্ড (৬৩৮ রান)। ওই টেস্টেরই প্রথম ইনিংসে শ্রীলংকা ৫৭০ রান করেছিল। এবারও টেস্টের আগে ব্যাটিং উইকেটই প্রত্যাশা করেছিল সবাই। বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম বলেছিলেন, ‘আগের মত উইকেট হয়তো থাকবে না। তবুও ব্যাট করার জন্য অসাধারণ উইকেট হবে এটা।’ মুশফিকের কথাই যেন সত্য প্রমাণ করলেন লংকান ব্যাটসম্যানরা। প্রথম দিন শেষে ৪ উইকেটে লংকানদের ৩২১ রানই প্রমাণ করছে সেটা।

এমন ব্যাটিং উইকেটে টস জিতে চোখ বন্ধ করেই যে কেউ ব্যাটিং বেছে নেবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। রঙ্গনা হেরাথরা তিনজন স্পিনার নিয়ে একাদশ সাজালেও ফিল্ডিং নেয়ার সাহস করেননি। ব্যাটিংই বেছে নিলেন।

যদিও ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বাংলাদেশের পেস আক্রমণের মুখোমুখি হয়ে উইকেট হারিয়েছিল শ্রীলংকা। দলীয় ১৫ রানে ব্যাক্তিগত ৪ রান করে শুভাশিষ রায়ের বলে বোল্ড হয়ে যান উপুল থারাঙ্গা।

দ্বিতীয় উইকেট জুটিটাও খুব বেশি বড় হতে দেননি মেহেদী হাসান মিরাজ। লংকানদের দলীয় ৬০ রানের মাথায় আরেক ওপেনার দিমুথ করুণারত্নেকে সরাসরি বোল্ড করে সাজঘরের পথ দেখান মেহেদী হাসান মিরাজ। দলীয় ৯২ রানে লংকান দুর্গে আবারও আক্রমণ শানান বাংলাদেশের বোলাররা। এবার সফল বোলারের নাম মোস্তাফিজুর রহমান। তার বলে ওঠা দিনেশ চান্ডিমালের ক্যাচটি ধরেন মিরাজ। ইনজুরি আর ফিটনেস সমস্যা কাটিয়ে ফেরার পর এটাই মোস্তাফিজের ফেরার প্রথম উইকেট।

তার আগেই শ্রীলংকা বড় বাচা বেঁছে গিয়েছিল। দিন শেষে বাংলাদেশকে যে সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছেন, ১৬৬ রানে অপরাজিত থাকা সেই কুশল মেন্ডিস মাঠে নেমেই আউট হয়ে গিয়েছিলেন। আম্পায়ার আঙ্গুলও তুলে দিয়েছিলেন; কিন্তু বিপত্তি বাধলো নো বল চেক করতে গিয়ে। শুভাশিস রায় ওভারস্টেপিং করলেন। ক্রিজের বাইরে পা ফেলে দিয়েছেন। সুতরাং, নো বল। প্রথম বলেই নতুন জীবন পেলেন মেন্ডিস। তিনিই শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকলেন ১৬৬ রানে। লংকানদের মোট সংগ্রহের অর্ধেকই এলো তার ব্যাট থেকে।

অ্যাশেলা গুণারত্নের সঙ্গে ১৯৬ রানের বিশাল জুটিটিও গড়লেন কুশল মেন্ডিস। ১৩৪ বলে ৮৫ রান করা অ্যাশেলা গুণারত্নে দিনের শেষ ভাগে এসে আউট হলেন তাসকিনের বলে বোল্ড হয়ে। কিন্তু কুশল মেন্ডিসকে আর কেউ বেকায়দায় ফেলার মত বল করতে পারেননি। দিন শেষে ১৪ রান করা নিরোশান ডিকওয়েলাকে অপরাজিত রয়েছেন তিনি।

সাতজন বোলার ব্যবহার করেও আশানুরূপ সাফল্য পাননি অধিনায়ক মুশফিক। বরং, ওভারপ্রতি ৩.৬৪ করে রান তুলে বড় স্কোরের ইঙ্গিতই দিচ্ছে শ্রীলংকা। শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামে তারা সেটাই দেখার বিষয়। দ্বিতীয়দিন সকালে কুশল মেন্ডিসের সঙ্গে দ্রুত কিছু উইকেট তুলে নিতে পারলেই কেবল শ্রীলংকার বড় স্কোর থামানো সম্ভব।