৪০ কিলোমিটার সড়কে ১৫ টি বাঁক

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদী জেলার ৪০ কিলোমিটার সড়কে ১৫টি বিপজ্জনক বাঁক আছে। দুর্ঘটনা এড়াতে সড়কের পাশে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড ঝোলানো হয়েছে। কিন্তু কোনো লাভ হচ্ছে না। মাধবদীর কান্দাইল থেকে রায়পুরার মরজাল পর্যন্ত সড়কে দুর্ঘটনায় গত এক বছরে ৪২ জন নিহত হয়েছেন।

হাইওয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট থানা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ৪০ কিলোমিটার সড়কে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪২ জন। এসব দুর্ঘটনার ঘটনায় মামলা হয়েছে ২৬টি। আর গত পাঁচ বছরে এই সড়কে দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যা ১৪০ জন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে নারী, শিশু, পথচারী, যাত্রী এবং গাড়ির চালক রয়েছেন। আবার নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৭০ ভাগই পথচারী। আর ৩০ ভাগ চালক ও অন্যান্য। এ ছাড়া অনেক দুর্ঘটনায় কোনো মামলাই হয়নি। দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোর লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি।

গত এক সপ্তাহে সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের এই ৪০ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ১৫টি বাঁক আছে। দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে মাধবদীর কান্দাইল বাজার, চৈতাব এলাকার ড্রিম হলিডে পার্ক, পাঁচদোনা পুলিশ ফাঁড়ি, ভেলানগরের জেলখানার মোড়, জেলা পরিষদ মোড়, শিবপুরের সৈয়দনগর ও শহীদ মিনার, সৃষ্টিগড়ের হাজীবাগান ও মরজাল বাসস্ট্যান্ড। প্রায় প্রতিটি স্থানেই দুর্ঘটনাপ্রবণ লেখা সাইনবোর্ড টাঙানো আছে। এই সড়কের দুই স্থান বাদে আর কোথাও সড়ক বিভাজক নেই। সড়কের দুই পাশে কোথাও পড়ে আছে সারি সারি পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি, কোথাও বিভিন্ন রকমের নির্মাণসামগ্রী। আর চালকেরা আগে যাওয়ার জন্য বেপরোয়া গাড়ি চালান।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে ঢাকার সঙ্গে সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদীর সড়ক যোগাযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ভারতের ত্রিপুরারও সড়ক যোগাযোগ রয়েছে। অসংখ্য বাস এই পথে ছুটছে। সেই সঙ্গে আছে ট্রাক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল ইত্যাদি। আরও আছে লেগুনা।

কান্দাইল এলাকার পথচারী বেলায়েত মিয়া বলেন, ‘চালকেরা সবাই আগে যাইতে চায়। চিকন রাস্তায় ওভারটেক করতে গিয়া সামনে থেকে আসা বাস বা কোনো কিছুর লগে লাইগাই অ্যাক্সিডেন্ট (দুর্ঘটনা) হয় বেশি। মধ্যে রাস্তা ভাগ করা থাকলে এমন অ্যাক্সিডেন্ট অইতো না।’

মহাসড়কের সৈয়দনগরে এই বিষয়ে কথা হয় বাসচালক আবু তাহেরের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এই রাস্তাটা অনেক বাকাত্যাড়া (বাঁক বেশি)। অনেক সময় সামনের গাড়িগুলি দেখা যায় না। এর জন্য অ্যাক্সিডেন্ট হয়। এ ছাড়া মানুষ রাস্তা পার হইতে মাঝে মাঝে দৌড় দেয়। তখনই গাড়ির তলে পড়ে।’

নরসিংদী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা মিয়া বলেন, এই মহাসড়কে পথচারী পারাপারের কোনো ব্যবস্থা নেই। জেলখানার মোড়ে একটি ছাড়া আর কোথাও ওভারব্রিজ (পদচারী-সেতু) নেই। খুব ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে হয়। বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরাও দ্রুতগতিতে গাড়ি চালান। চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া খুব জরুরি।

ইটাখোলা হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক মো. হাফিজুর রহমান জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বিভাজক না থাকায় চালকেরা ওভারটেক করার সময় দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে। কিছু কিছু স্থানে ব্লাইন্ড টার্নিং (অন্ধ বাঁক) থাকায় চালকেরা সামনের যানবাহন দেখতে পান না। এতেও কিছু দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার কারণে কখনো কখনো চালকদের আটক করা গেলেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের তদবিরে তাঁদের শাস্তি দেওয়া যায় না। এতে তাঁরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।