ইতালি মিলানোর সান জুলিয়ানো হাসপাতালের মর্গ থেকে আমি লাশ বলছি!!

রিপোর্ট -ফেরদৌসি আক্তার পলি,ইতালি হতে

বৃহত্তর ঢাকা জেলার মুন্সীগঞ্জের লৌহ জং গ্রামের নিবাসী শেখ সেলিম গত ৩০ জুলাই রাত আনুমানিক ১১.৪৫ মিনিটে হৃদ যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু বরণ করেন ,
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর ,মৃত্যুকালে স্ত্রী একমাত্র কন্যা সহ বন্ধু বান্ধব আত্মীয় পরিজন রেখে গেছেন,পরিচিত মানুষগুলো ও আছে, তবে সবাই আছে প্রিয় জন্মভূমি সুদূর বাংলাদেশে আর মরা লাশ হয়ে পরে আছে শেখ সেলিম এর নিথর দেহটি সান জুলিয়ানো হাসপাতালের মর্গে।
প্রায় ১৭ দিন ধরে পড়ে আছে লাশ হয়ে।প্রবাসী বাংলাদেশি ভাইদের কাছে যেন লাশ হয়ে আবেদন জানাচ্ছে  নিজ দেশের মাটিতে চির নিদ্রায় শায়িত হতে।কেউ কি নেই প্রবাসী ভাইয়েরা? যে সহযোগিতার হাত বাড়াবে?লাশটির যেন মহাপাপ হয়েছে মিলানোতে বসবাস করে।সে দীর্ঘসময় মিলানোতে ফুল বিক্রি করে দেশে টাকা পাঠিয়ে পরিবারকে সাবলম্বী করেছে।দেশের একজন রেমিটেন্স যোদ্ধা হিসেবে দেশকে সহযোগীতা করেছে।লাশটির যেন আরোও বড় ভুল হয়েছে, সে এমন সময়ই  হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলো,যখন তার ইতালির কাগজপত্র সরকারিভাবে পূর্নতা পায় নি।
মৃত মিলানো প্রবাসী বাংলাদেশি ভাইয়ের একমাত্র মেয়ে অপর্নার কান্নার শব্দে পৃথিবীটা যেনো ভারী হয়ে আছে,সে দেখতে চায় তার বাবার মুক্তি শেষবারের মতো।বুকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে কাঁদতে চায়।নিজ দেশের মাটিতে দাফন করতে চায়।এটা কি অনেক বড় চাওয়া মেয়ে অপর্নার?আমাদের সমাজ কি এই সুযোগ করে দিবে মেয়ে অপর্নাকে?আমাদের দেশের সরকার কি এই সুযোগ করে দিবে মেয়ে অপর্নাকে?কেউ কি নেই সহযোগিতা করার জন্য?
মিলান বাংলাদেশ কনস্যুল এর কি ভূমিকা?একটি মাত্র সাদা কাগজ যার নাম ডেথ সার্টিফিকেট।শুধু এই সাদা কাগজটিতে একটিমাত্র সিল করলেই লাশটির মুক্তি মিলবে।তারপর বিমানের কফিনে যাবে বাংলাদেশে।
পরিবারের কাছে কতো কষ্ট,কতো বেদনা,কতো কষ্ট প্রবাসী জীবন।বেঁচে থাকতে জীবন জীবিকার যুদ্ধ, মরে গেলে লাশ হয়ে মর্গ থেকে ছাড়পত্র পাবার যুদ্ধ। লাশ এর আবেদন,”একদিন মানুষ ছিলাম তোমাদের মতো,আজ মুক্তির আবেদন করছি লাশঘর হতে,সাড়া দাও প্রবাসী ভাইয়েরা”।
মিলান আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বৃহত্তর ঢাকা সমিতির সভাপতি আরফান শিকদার সাড়া দিয়ে ইতোমধ্যে মিলান বাংলাদেশি কমিউনিটির সাথে যোগাযোগ শুরু করেছেন।তিনি লাশ পরিবারের নিকট দেশে পাঠানোর জন্য টাকাপয়সা, পাসপোর্ট সমস্যাসহ যাবতীয় ব্যবস্থা করে ফেলেছেন।মিলান বাংলাদেশি কনস্যুল কে ও তিনি আবেদন করেছেন ডেথ সার্টিফিকেটের জন্য।পরবর্তিতে তিনি নিজ দায়িত্বে অফিসে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করে অবশেষে ডেথ সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেছেন।একজন আরফান শিকদারকে অনেক ধন্যবাদ, তার এই মানবিক উদ্যােগের জন্য।

এই মানবিক সহযোগিতায় অক্লান্ত পরিশ্রম এর সাথে আরো যারা এগিয়ে এসেছেন লুৎফর রহমান যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মিলান লোম্বার্দিয়া আওয়ামীলীগ ও উপদেষ্টা বৃহত্তর ঢাকা সমিতি ,সারোয়ার হোসেন সাংস্কৃতিক সম্পাদক মিলান লোম্বার্দিয়া আওয়ামীলীগ ও উপদেষ্টা বৃহত্তর ঢাকা সমিতি ,মিলান বাংলাদেশী কমিউনিটির মোহাম্মদ আকবর মুন্সী ,মোহাম্মদ রাজু মিয়া ,মোহাম্মদ মাহাবুব সহ আরো অনেকে। তাদের সবার একটাই চাওয়া বাংলাদেশে অপেক্ষমান মরহুম শেখ সেলিম এর লাশটি যেন খুব দ্রুত তার পরিবারের কাছে হস্তান্তরিত হয়।
অনেকদিন পর মিলান কনস্যুল জেনারেল এর নিকট প্রবাসীদের প্রশ্ন? একটি মাত্র সাদা কাগজের ডেথ সার্টিফিকেটের মূল্য কত?১৮ দিন কোনো অপেক্ষা করতে হবে ডেথ সার্টিফিকেটের জন্য?মিলান বাংলাদেশি কনস্যুল কি উদাসিন?হয়তো বা আরোও কতো নাম না জানা প্রবাসী বাংলাদেশি লাশ হয়ে পড়ে আছে মর্গে,আর আবেদন জানাচ্ছে আমি লাশ বলছি মর্গ হতে।